Slide 1

Slide 1

Slide 2

Slide 2

Slide 3

Slide 3

Slide 4

Slide 4

Slide 5

Slide 5

We are Ambassadors for Christ || রাজদূতের কর্ম

 রাজদূতের কর্ম

পাষ্টর আবদুল মাবুদ চৌধুরী
 
 
 
“খ্রীষ্টের পক্ষেই আমরা রাজদূতের কর্ম করছি” (২ করিন্থীয় ৫: ২০ পদ) ।
 
 
এই অংশটি সম্পূর্ণ পদের প্রথম অংশ। অবশিষ্ট অংশ হলো- “ঈশ্বর যেন আমাদের দ্বারা নিবেদন করছেন; আমরা খ্রীষ্টের পক্ষে এই বিনতি করছি, তোমরা ঈশ্বরের সহিত সম্মিলিত হও।”
 
 
 
উল্লেখিত পদের কথা গুলো অনেকবার পাঠ করলাম এবং ভাবছি সত্যিই তো আমি রাজদূত। যাকে রাষ্ট্রযন্ত্র বলে থাকে রাষ্ট্রদূত। কোন্ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত? আমিতো বাংলাদেশের নাগরিক। বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত প্রেরণ করা হয়েছে। তারা তাদের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করার চেষ্টা নিশ্চয় করে যাচ্ছে। সেখানে আমার তো কোন প্রয়োজন নেই বা আমাকে সেরকম কোন দায়িত্ব দেয়া হয় নি। আমরা জানি, নাগরিক হিসেবে আমাকে সরকার নির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব না দিলেও আমরা যখন যে কোন প্রয়োজনে অন্য কোন দেশ ভ্রমণে যাই, তখন আমি আমার দেশের পক্ষে নৈতিকভাবে একজন রাজদূত বা রাষ্ট্রদূত। আমি এমন কিছু করতে পারি না যাতে আমার দেশের সুনাম নষ্ট হয়। তাহলে বাইবেলে আমাকে কোন্ দেশের রাষ্ট্রদূত করেছেন? সেই বিষয়ে প্রেরিত পিতর বলেছেন,
 
 
 
“আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের ঈশ্বর এবং পিতার গৌরব হোক। যীশু খ্রীষ্টকে মৃত্যু থেকে জীবিত করে তুলে ঈশ্বর তাঁর প্রচুর করুণায় আমাদের নতুন জন্ম দান করেছেন। তার ফলে আমরা একটা জীবন্ত আশ্বাস পেয়েছি, অর্থাৎ ভবিষ্যতে এমন একটা সম্পত্তি পাবার আশ্বাস আমরা পেয়েছি যা কখনও ধ্বংস হবে না, যাতে মন্দ কিছু থাকবে না এবং যা চিরকাল নতূন থাকবে। এই সম্পত্তি তোমাদের জন্য স্বর্গে জমা করা আছে” (১ পিতর ১: ৩ - ৪ পদ) ।
 
 
 
আমরা খ্রীষ্টিয়ান হিসেব এই পৃথিবীতে খুবই অল্প সময়ের জন্য থাকব। আমরা ঈশ্বরের হাতের তালুতে আছি এবং পৃথিবীতে পদচারণা করে চলেছি। আমাদের এই থাকার কারণ হলো যেন আমরা তাঁকে গৌরবান্বিত করি। ২ করিন্থীয় ৫ : ২০ পদ আমাদের বলছে যে, আমার খ্রীষ্টের রাজদূত। একজন রাজদূত সেই যিনি নির্দিষ্ট কোন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করবেন - যিনি অন্যের জন্য কথা বলবেন। একইভাবে আমরা ঈশ্বরের বার্তার পক্ষে কথা বলব এবং তা ঘোষণা করব। প্রেরিত ১ : ৮ পদে প্রভু যীশু বলেছেন, “তবে পবিত্র আত্মা তোমাদের উপরে আসলে পর তোমরা শক্তি পাবে, আর যিরূশালেম, সারা যিহুদিয়া ও শমরিয়া প্রদেশে এবং পৃথিবীর শেষ সীমা পর্যন্ত তোমরা আমার সাক্ষী হবে।” মথি ৫ : ১৪ পদে বলেছেন, “তোমরা জগতের আলো। পাহাড়ের উপরের শহর লুকানো থাকতে পারে না।”
 
 
 
আমরাই হলাম সেই পাহাড়ের উপরের শহর - বর্তমান অন্ধকার সময়ের আমরাই হলাম আলো। আমরা প্রভু যীশুর বাণীই প্রচার করছি। তিনিই হলেন আমাদের বার্তা। আর আমরা হলাম তাঁর দূতগণ। আমাদের অবশ্যই তাঁর বার্তা প্রচার করতে হবে - এরই দ্বারা আমরা ঈশ্বরকে গৌরবান্বিত করে থাকি। সুসমাচারের যে বার্তা আমাদেরকে প্রচার করতে হবে তাহলো - খ্রীষ্ট আমাদের পাপের জন্য মরেছেন এবং পুনরায় জীবিত হয়েছেন। আমাদের প্রচার হবে ঈশ্বরের ক্রোধ পাপীদের জন্য অপেক্ষা করছে কিন্তু ঈশ্বরের দয়া ও দান হলো খ্রীষ্ট প্রভুর মাধ্যমে পাপের ক্ষমা। তিনি তাদেরকে নতূন জীবন দান করবেন যারা তাঁকে মুক্তিদাতা হিসেবে গ্রহণ করবেন।
 
 
 
রোমীয় ১ : ১৬ পদে বলেছেন, যীশু খ্রীষ্টের বিষয়ে এই যে সুখবর তাতে আমার কোন লজ্জা নেই, কারণ এই সুখবরই হলো ঈশ্বরের শক্তি যার দ্বারা তিনি সব বিশ্বাসীদের পাপ থেকে উদ্ধার করেন - প্রথমে যিহুদীদের, তারপর অযিহুদীদের।
 
 
 
একজন সত্যিকারের খ্রীষ্টে বিশ্বাসী প্রভুর সমস্ত বাক্যে বিশ্বাস করে। একজন সত্যিকারের খ্রীষ্টিয়ান সুসমাচারের বার্তা প্রচার করবে যেহেতু তিনি বা তারা এই বার্তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে। তাদের মধ্যে যারা প্রভুর বাক্য পালনে লজ্জা বা অপারগতা প্রকাশ করে তারা কখনও তাঁর হতে পারে না। প্রভু যীশু খুবই সহজ সরলভাবে আমাদের বলেছেন, “যদি কেউ আমাকে নিয়ে ও আমার কথা নিয়ে লজ্জা বোধ করে, তবে মনুষ্যপুত্র যখন নিজের মহিমা এবং পিতা ও পবিত্র স্বর্গদূতদের মহিমায় আসবেন তখন তিনিও সেই লোকের সম্বন্ধে লজ্জা বোধ করবেন” লূক ৯ : ২৬ পদ।
 
 
 
অনেক পালক বা প্রচারক পবিত্র শাস্ত্রের যে সত্য তা প্রচার না করে, মিষ্ট, সুন্দর ও জ্ঞানগর্ব প্রচার করে - অথচ খ্রীষ্টের রক্তে ধৌত হওয়া, অবিশ্বাসীদের বিচার, পাপের ও অনন্ত শাস্তির কথা প্রচার ইত্যাদি প্রভুর বাক্য প্রচার করতে লজ্জা করে। সেই সব সুবক্তা বা সুন্দর প্রচারের পালক-প্রচারকগণ হলো কাপুরুষ যারা শুধু ধর্মের বাণী পুলপিটের  মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে। সেই রকম লোকেরা কোনভাবে খ্রীষ্টের রাজদূত হতে পারে না কারণ তারা খ্রীষ্টের বার্তা সম্পর্কে কথা বলে না যা প্রভু সমস্ত সুসমাচারে ও পত্রাবলীতে গুরুত্বের সাথে প্রচার করে গেছেন। নরক সম্পর্কে প্রভু যীশু এককভাবে সমস্ত সুসমাচারে যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ বাইবেলেও এত বলা হয় নি। মনে রাখতে হবে, সুখবর তখনই সুখবর হবে যখন একজন খারাপ খবরগুলো জানতে পারবে।   
 
 
 
যোহন ৩ : ১৭ - ১৮ পদে যীশু বলেছেন, “ঈশ্বর মানুষকে দোষী প্রমাণ করবার জন্য তাঁর পুত্রকে জগতে পাঠান নি, বরং মানুষ যেন পুত্রের দ্বারা পাপ থেকে উদ্ধার পায় সেইজন্য তিনি তাঁকে পাঠিয়েছেন। যে সেই পুত্রের উপরে বিম্বাস করে তার কোন বিচার হয় না, কিন্তু যে বিশ্বাস করে না তাকে দোষী বলে আগেই স্থির করা হয়ে গেছে, কারণ সে ঈশ্বরের একমাত্র পুত্রের উপরে বিশ্বাস করে নি।”
 
 
 
আমাদের প্রভু আমাদেরকে “জগতের লবণ” বলেছেন। “তোমরা পৃথিবীর লবণ, কিন্তু যদি লবণের স্বাদ-নষ্ট হয়ে যায় তবে কেমন করে তা আবার নোন্তা করা যাবে? সেই লবণ আর কোন কাজে লাগে না। তা কেবল বাইরে ফেলে দেবার ও লোকের পায়ে মাড়াবার উপযুক্ত হয়” মথি ৫ : ১৩ পদ। পরিত্রাণ সম্পর্কে প্রভুর যে বার্তা তা আমাদের সাক্ষ্যবহনের মাধ্যমেই মানুষ জানতে পারবে। যদি সেইদিন প্রেরিত ও সাধুগণ আনন্দের সাথে কালভেরীর ক্রুশের কথা ও শুণ্য কবরের কথা ঘোষণা না করে নিরব থাকতেন তাহলে এই পৃথিবী তা কীভাবে শুনত? সাধু দাউদ বলেছেন, “আকাশম-ল ঈশ্বরের গৌরব বর্ণনা করে, বিতান তাঁর হস্তকৃত কর্ম জ্ঞাপন করে” (গীত ১৯ : ১)। স্বর্গ ঘোষণা করছে “একজন ঈশ্বর আছেন” কিন্তু ম-লী ঘোষণা করে সুসমাচারের বার্তা - একমাত্র বার্তা যা হারানো আত্মা উদ্ধার করতে পারে। বিতান বা মহাকাশ দেখিয়ে থাকে ঈশ্বরের হাতের কাজ কিন্তু সুসমাচারের বার্তা ঘোষণা করে প্রভু কে এবং আমাদের জন্য তাঁর মহান ভালবাসা। রোমীয় ১ : ১৬ পদে বলেছেন, খ্রীষ্টের সুসমাচার হলো “ঈশ্বরের শক্তি যার দ্বারা তিনি সব বিশ্বাসীদের পাপ থেকে উদ্ধার করেন . . ।”
 
 
 
তাঁর রাজদূত হবার থেকে আমাদের আর এমন কোন শ্রেষ্ঠ সম্মান থাকতে পারে না। তাঁর সুসমাচার প্রচার করাই হলো এই পৃথিবীতে আমাদের সর্বোচ্চ কাজ। আমরা যদিও এই পৃথিবীতে কিন্তু আমাদের নাগরিকত্ব স্বর্গে। একজন জগতের রাষ্ট্রদূত তার নিয়োগকর্তার কথা বলতে কোনভাবে লজ্জা করেন না বরং তিনি তা পেশাদারিত্বের সাথে প্রেরণকর্তার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব ও কথা বলে থাকেন। তাহলে আমরা স্বর্গের নাগরিক হয়ে প্রভুর বার্তা - ঈশ্বরের ভালবাসা প্রচার করা, খ্রীষ্ট যীশুর মাধ্যমে পাপের ক্ষমার কথা বলা, যারা তাঁকে ত্রাণকর্তা হিসেবে গ্রহন করবেন তাদের তিনি নরকের শাস্তি থেকে উদ্ধার করে অনন্ত জীবন দান করবেন তা কি সাহসের সাথে প্রচার করি? এখানে কি সম্মানের কিছূ নেই! আমরা কেউ খাঁটি নই কিন্তু তাঁর বার্তা সম্পূর্ণ খাঁটি ও সত্য। তাঁর পথ সবসময় সঠিক। আমরা নিজের শক্তিতে কোন কিছুই করতে পারব না কিন্তু তাঁতে যখন নির্ভর করব, আমাদের মধ্য দিয়ে কাজ করার জন্য যখন তাঁকে সুযোগ দিব তখন খ্রীষ্ট আমাদের শক্তিশালী করবেন যেন আমরা তাঁর শক্তিতে সমস্ত কিছু করতে পারি। প্রভু আমাদের সেই সাহস দান করুন যেন আমরা তাঁর বার্তা সেই সকল মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারি যারা এখনো তা পায় নি।
 
 
 
যোহন ৫ : ৫ যারা বিশ্বাস করে যীশু ঈশ্বরের পুত্র, একমাত্র তারাই জগতের উপর জয়লাভ করে।
যোহন ৪ : ১৭ এইভাবেই ভালবাসা আমাদের অন্তরে পূর্ণতা লাভ করে, যেন বিচারের দিনে আমরা সাহস পাই, কারণ এই জগতে আমাদের জীবন তাঁরই জীবনের মত।
 
 
 
আমাদের যে বার্তা তা কোন রাজনৈতিক বার্তা নয়, খ্রীষ্টিয়ানদের স্বপ্নের বা কাল্পনিক রাষ্ট্র গড়ার জন্য আহ্বান করা হয় নি। আমাদেরকে আহ্বান করা হয়েছে যেন আমরা মানবজাতির সাথে শান্তিতে বাস করি কারণ আমরা জানি প্রভু যীশু বলেছেন, “এই জগত আমার রাজ্য নয়”। সুতরাং সত্যিকারের খ্রীষ্টিয়ান জানেন, শান্তি রাজ খ্রীষ্ট যীশু পুনরায় এসে এই পৃথিবীতে তাঁর রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত স্থায়ী শান্তি এই পৃথিবীতে আসবে না। ম-লীতে বা দেশে রাজনীতির সাথে নিজেকে জড়ানোর জন্য প্রভু আমাদেরকে আহ্বান করেন নি। আমরা অবশ্যই আমাদের দেশ ও ম-লীর নেতার জন্য প্রার্থনা করব এবং আমাদের চর্তুদিকের মানুষগুলোর জন্য প্রার্থনা করবো কিন্তু খ্রীষ্ট যীশু আমাদেরকে রাজনীতিবিদ হবার জন্য আহ্বান করেন নি। আমরা নিজেদেরকে এমনভাবে রাজনীতিতে জড়াচ্ছি অথচ যার জন্য আমি ঈশ্বরের আহ্বান পায় নি। একজন খ্রীষ্টিয়ান প্রভু যীশু খ্রীষ্টের প্রতিনিধি - তাঁর বার্তা যা আমরা এই পৃথিবীতে ঘোষণা করে থাকি। মনুষ্য সমুদয় জগত জয় করে যদি আপন প্রাণ হারিয়ে ফেলে তাতে লাভ কি? রাজনীতি কি তাকে রক্ষা করতে পারবে? না, শুধুমাত্র সুসমাচারের বার্তা তাহলো “ঈশ্বরের শক্তি যার দ্বারা তিনি সব বিশ্বাসীদের পাপ থেকে উদ্ধার করেন - প্রথমে যিহুদীদের, তারপর অযিহুদীদের।” আমরা কি এখনও নিরব থাকব? “আমরা দেখেছি ও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, পিতা পুত্রকে মানুষের উদ্ধারকর্তা হিসাবে পাঠিয়েছিলেন” ১ যোহন ৪ : ১৪ পদ।

 

 

খ্রীষ্টিয়ানেরা ইস্রায়েলের প্রতিনিধিত্ব করে না, কারণ বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে তারা অতিরিক্ত রাজনীতির সাথে নিজেদের জড়িয়ে ফেলছে। বাংলাদেশেও আমরা যদিও সংখ্যায় এতই অল্প যে গণণা করার প্রয়োজন পড়ে না অথচ নিজেদেরকে এতবেশী রাজনীতিতে জড়াচ্ছি যা সত্যিই খ্রীষ্টিয়ান হিসেবে লজ্জাকর। মিশনে মিশনে, ম-লীতে, সমিতির নামে, সংগঠনের নামে, ফোরামের নামে, কে কোন বড় পদটি দখল করবে সেই কারণে, এমনকি তা বর্তমানে এসে ঠেকেছে কে কোন ম-লীর কমিটিতে জায়গা করে নিবে সেই কারণে। নোংরাভাবে, অসৎ উপায়ে অন্যকে সরিয়ে নিজে পদ দখল করা কি আমাদের কাজ? আমাদের কি কোন অধিকার আছে ধর্মটাকে মানুষের কাছে হাসির পাত্র করার? আমাদের এহেন আচরণে পাশের মানুষ যখন হাসে তখন কি খ্রীষ্ট লজ্জিত হচ্ছেন না? সত্যিাকার অর্থে এসবের কি আদৌ প্রয়োজন আছে? ঈশ্বর কি আপনার জীবনের জন্য সেই আহ্বান দিয়েছেন? এমনি ভাবে যদি আমরা নিজেদেরকে সত্যিকারের রাজদূতের আহ্বান থেকে নিজেদেরকে রাজনীতিতে বেশী জড়িয়ে ফেলি তাহলে কি ঈশ্বর তাঁর ক্রোধ নিয়ে আমার আপনার দিকে তাকাবেন না? ইস্রায়েল জাতি রাজনীতির ফাঁদে পড়ে আজ ঈশ্বর থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। আমি বিশ্বাস করি তাদের যে দেশ তা ঐশ্বরীয় সত্য। আমি বাইবেল বিশ্বাস করি এবং এই জন্য মনে মনে তাদের সমর্থনও করি কিন্তু এটিও ঠিক যে খ্রীষ্টের আগমনের পূর্বমূহুর্ত পর্যন্ত তাদের সমস্যা শুধুই বাড়বে। আর শেষ সময়ে খ্রীষ্ট আসবেন এবং ইস্রায়েলকে উদ্ধার করবেন ও তার শক্রদের ধ্বংস করবেন। তখন ইস্রায়েল রোদন করবে এবং বলবে, “ধন্য তিনি, যিনি প্রভুর নামে এসেছেন”, তারপর তারা শেষ পর্যন্ত ক্রুশারোপিত এবং পুরুত্থিত মসীহকে স্বীকার করবেন - যাঁর কথা যিশাইয় ভাববাদী যিশাইয় ৫৩ অধ্যায়ে এবং যার কথা সখরিয় ভাববাদী সখরিয় ১২:১০ পদে বলেছেন।  
 
 
 
একদিন সমস্ত ইস্রায়েল পরিত্রাণ পাবে কিন্তু কিছু সময়ের জন্য সমস্ত ইস্রায়েল ঈশ্বর থেকে দূরে অবস্থান করছেন। তারা এখন পরজাতিদের কাছে স্বীকৃতির জন্য সাহায্য চায় এবং তথাকথিত শান্তির জন্য তারা তাদের ভূমির বিনিময় করছে। এ সমস্ত বিষয় ইস্রায়েল জাতির জন্য ঈশ্বরের ইচ্ছা নয়। আর তা আমরা ইস্রায়েল জাতির ইতিহাস পড়লে বুঝতে পারি। প্রেরিত পৌল রোমীয় ১০ : ১ পদে বলেছেন, “ভাইয়েরা, ইস্রায়েলীয়দের জন্য আমার অন্তরের গভীর ইচ্ছা ও ঈশ্বরের কাছে আমার প্রার্থনা এই যে, তারা যেন পাপ থেকে উদ্ধার পায়।” এটি আমাদেরও ইচ্ছা যেন তারা পরিত্রাণ পায়।
 
 
 
অন্যদিকে একই ভাবে আমরা খ্রীষ্টিয়ানেরা নানান ভাবে পরজাতিদের প্রতি ঝুঁকে যাচ্ছি - তাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছি, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য তাদের সাথে হাত মিলাচ্ছি, নিজেদের রক্ষার জন্য বাইবেলের বাক্যের মধ্যে ভাজ দিচ্ছি, প্রচারে ভেজাল পদ্বতি উদ্ভাবন করছি, দিনের পরিচয় ও রাতের পরিচয় পৃথক করে ফেলছি, প্রতিহিংসা আমাদের আস্থাকুঁড়ে খাচ্ছে। আজকে কারা ম-লীর দায়িত্বে আসছেন? কোন উদ্দেশ্যে তারা আসলে আসতে এতই ব্যস্ত? এখানে ম-লীর কী কোন ভূমিকা নেই? আজ হয়তো এ সমস্ত নিয়ে ম-লীকে চিন্তা করবার সময় এসেছে। অথচ আমাদের বেশীর ভাগ ম-লী ঈশ্বরের যে আহ্বান রাজদূতের কাজ করার তা ত্যাগ করে আরো বেশী রাজনীতিতে জড়িয়ে যাচ্ছে যা খ্রীষ্টিয়ান হিসেবে আমাদের কাম্য হতে পারে না।
 
 
১ করিন্থীয় ৯ : ১৪ পদ- “ঠিক সেইভাবে প্রভু আদেশ দিয়েছেন, যারা সুখবর প্রচার করে তারা যেন তা থেকেই খাওয়া-পরা পায়।
 
 
২ তীমথিয় ৩ : ১২ - ১৪ পদ- “আসলে যারা খ্রীষ্ট যীশুর সংগে যুক্ত হয়ে ঈশ্বরের প্রতি ভক্তিপূর্ণ জীবন কাটাতে চায় তারা অত্যাচারিত হবেই। কিন্তু দুষ্ট লোকেরা দিন দিন আরও খারাপ হবে। তারা অন্যদের ভুল পথে নিয়ে যাবে আর নিজেরাও ভুল পথে চালিত হবে। কিন্তু তুমি যা শিখেছ এবং নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেছ তাতে স্থির থাক, কারণ কাদের কাছ থেকে তুমি সেগুলো শিখেছ তা তো তুমি জান।
 
 
১ পিতর ২ : ৯ পদ - কিন্তু তোমরা তো “বাছাই করা বংশ হয়েছ; তোমাদের দিয়ে গড়া হয়েছে পুরোহিতদের রাজ্য; তোমরা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে আলাদা করা জাতি ও তাঁর নিজের লোক হয়েছ;” যেন অন্ধকার থেকে যিনি তোমাদের তাঁর আলোর মধ্যে ডেকে এনেছেন তোমরা তাঁরই গুণগান কর।
 
 
খ্রীষ্টিয়ানেরা খ্রীষ্টের প্রতিনিধিত্ব করে, হারানোদের কাছে ও অন্ধকার জগতের কাছে তাঁর পরিত্রাণের বার্তা প্রচার করার সাহস যেন ঈশ্বর আমাদের দান করেন। আমরা যেন অন্যের কাছে প্রতিবন্ধক স্বরূপ না হয়ে আমাদের আলো আমরা যেন দেখাতে পারি। প্রভু যীশুর ভালবাসা যেন আমাদের জীবনে প্রকাশ পায়। কারণ আমরা তাঁরই রাজদূত। যদিও আমরা দুর্বল কিন্তু তিনি সবল। আমরা সবকিছু জানি না কিন্তু আমরা কিছু জানি কারণ ঈশ্বরের শক্তি আমাদের মাঝে কাজ করছেন। আমরা তাঁর বাক্যে বিশ্বাস করি। তাই আমাদের আস্থা শুধুমাত্র তাঁরই উপরে। পরিত্রাণের শক্তিশালি বার্তা যেন নম্রতার সাথে আমরা অন্যকে জানাই। আমাদের প্রভু মহান! তাঁর বার্তা সত্য! প্রভু যীশু এখনও উদ্ধার করতে পারেন। আমাদের বার্তা হলো - খ্রীষ্ট যীশু। তিনিই আমাদের আর্শীবাদের প্রত্যাশা। আসুন এই কথাগুলো আমরা সবসময় স্বরণ করি।
 

মথি ২৪ : ১৪ পদ- সমস্ত জাতির কাছে সাক্ষ্য দেবার জন্য স্বর্গ-রাজ্যের সুখবর সারা জগতে প্রচার করা হবে এবং তার পরেই শেষ সময় উপস্থিত হবে।

 

যদি সুসমাচার প্রচার আমরা আজকেই আরম্ভ করি, তাহলে আগামী ২০ বছরে তা কোথায় গিয়ে পৌঁছবে?
 
 
যোহন ৩ : ১৬ - ১৮ পদ - “ঈশ্বর মানুষকে এত ভালবাসলেন যে, তাঁর একমাত্র পুত্রকে তিনি দান করলেন, যেন যে কেউ সেই পুত্রের উপরে বিশ্বাস করে সে বিনষ্ট না হয় কিন্তু অনন্ত জীবন পায়। ঈশ্বর মানুষকে দোষী প্রমাণ করবার জন্য তাঁর পুত্রকে জগতে পাঠান নি, বরং মানুষ যেন পুত্রের দ্বারা পাপ থেকে উদ্ধার পায় সেইজন্য তিনি তাঁকে পাঠিয়েছেন। যে সেই পুত্রের উপরে বিশ্বাস করে তার কোন বিচার হয় না, কিন্তু যে বিশ্বাস করে না তাকে দোষী বলে আগেই স্থির করা হয়ে গেছে, কারণ সে ঈশ্বরের একমাত্র পুত্রের উপরে বিশ্বাস করে নি।”
 
 
প্রেরিত ১৭ : ৩ পদ- তিনি লোকদের বুঝালেন এবং প্রমাণ করলেন যে, মসীহের কষ্টভোগ করবার এবং মৃত্যু থেকে জীবিত হযে উঠবার দরকার ছিল। তিনি বললেন, “যে যীশুর কথা আমি আপনাদের কাছে প্রচার করছি সেই যীশুই হলেন মসীহ।
 
 
গালাতীয় ১ : ৯ পদ- আমি যেমন আগেও বলেছি তেমনি এখন আবার বলছি, যে সুখবর তোমরা গ্রহণ করেছ তা থেকে আলাদা কোন সুখবর যদি কেউ প্রচার করে তবে তার উপর অভিশাপ পড়ুক।

 

 

 
  ©Isa-e Church Bangladesh